আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি,
তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
নিশিদিন হেথায় বসে আছি,
তোমার যখন মনে পড়ে আসিয়ো ॥
আমি সারানিশি তোমা-লাগিয়া
রব বিরহশয়নে জাগিয়া--
তুমি নিমেষের তরে প্রভাতে
এসে মুখপানে চেয়ে হাসিয়ো ॥
তুমি চিরদিন মধুপবনে
চির-বিকশিত বনভবনে
যেয়ো মনোমত পথ ধরিয়া
তুমি নিজ সুখস্রোতে ভাসিয়ো।
যদি তার মাঝে পড়ি আসিয়া
তবে আমিও চলিব ভাসিয়া,
যদি দূরে পড়ি তাহে ক্ষতি কী--
মোর স্মৃতি মন হতে নাশিয়ো ॥
-
রাগ: মিশ্র গৌরী
তাল: কাহারবা-দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1296
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1889
Friday, March 4, 2016
আমি নিশিদিন তোমায় ভালোবাসি, তুমি অবসরমত বাসিয়ো।
শুভযোগ - যে সন্ধ্যায় প্রসন্ন লগনে পূর্ণচন্দ্রে হেরিল গগনে উৎসুক ধরণী,
শুভযোগ
- মহুয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
যে সন্ধ্যায় প্রসন্ন লগনে
পূর্ণচন্দ্রে হেরিল গগনে
উৎসুক ধরণী,
সর্বাঙ্গ বেষ্টিয়া তার তরঙ্গের ধন্য-ধন্য ধ্বনি
মন্দ্রিয়া উঠিল কূলে কূলে;
নদীর গদ্গদ বাণী অশ্রুবেগে উঠে ফুলে ফুলে
কোটালের বানে,
কী চেয়েছে কী বলেছে আপনি না জানে;
সে সন্ধ্যায় প্রসন্ন লগনে
তোমারে প্রথম দেখা দেখেছি জীবনে।
যে বসন্তে উৎকণ্ঠিত দিনে
সাড়া এল চঞ্চল দক্ষিণে;
পলাশের কুঁড়ি
একরাত্রে বর্ণবহ্নি জ্বালিল সমস্ত বন জুড়ি;
শিমুল পাগল হয়ে মাতে,
অজস্র ঐশ্বর্যভার ভরে তার দরিদ্র শাখাতে,
পাত্র করি পুরা
আকাশে আকাশে ঢালে রক্তফেন সুরা।
উচ্ছ্বসিত সে এক নিমেষে
যা-কিছু বলার ছিল বলেছি নিঃশেষে।
-
চৌরঙ্গি,কলিকাতা,
২৪ শ্রাবণ, ১৩৩৫
আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
আমি তোমার সঙ্গে বেঁধেছি আমার প্রাণ সুরের বাঁধনে--
তুমি জান না, আমি তোমারে পেয়েছি অজানা সাধনে॥
সে সাধনায় মিশিয়া যায় বকুলগন্ধ,
সে সাধনায় মিলিয়া যায় কবির ছন্দ--
তুমি জান না, ঢেকে রেখেছি তোমার নাম
রঙিন ছায়ার আচ্ছাদনে॥
তোমার অরূপ মূর্তিখানি
ফাল্গুনের আলোতে বসাই আনি।
বাঁশরি বাজাই ললিত-বসন্তে, সুদূর দিগন্তে
সোনার আভায় কাঁপে তব উত্তরী
গানের তানের সে উন্মাদনে॥
-
রাগ: বাহার-সোহিনী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১৩৪৫
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): মার্চ, ১৯৩৯
স্বরলিপিকার: শৈলজারঞ্জন মজুমদার
মাধবী - বসন্তের জয়রবে দিগন্ত কাঁপিল যবে মাধবী করিল তার সজ্জা।
মাধবী
- মহুয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
বসন্তের জয়রবে
দিগন্ত কাঁপিল যবে
মাধবী করিল তার সজ্জা।
মুকুলের বন্ধ টুটে
বাহিরে আসিল ছুটে,
ছুটিল সকল তার লজ্জা।
অজানা পার্শ্বে লাগি
নিশি নিশি ছিল জাগি,
দিনে দিনে ভরেছিল অর্ঘ্য।
কাননের একভিতে
নিভৃত পরানটিতে
রেখেছিল মাধুরীর স্বর্গ।
ফাল্গুন পবনরথে
যখন বনের পথে
জাগাল মর্মর-কলছন্দ,
মাধবী সহসা তার
সঁপি দিল উপহার,
রূপ তার, মধু তার, গন্ধ।
-
শান্তিনিকেতন,দোলপূর্ণিমা, ১৩৩৪
এত ফুল কে ফোটালে কাননে --
এত ফুল কে ফোটালে কাননে !
লতাপাতায় এত হাসি -
তরঙ্গ মরি কে ওঠালে।।
সজনীর বিয়ে হবে ফুলেরা শুনেছে সবে—
সে কথা কে রটালে।।
-
রাগ: মিশ্র কালাংড়া
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ফাল্গুন, ১২৯০
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে
কোথাও আমার হারিয়ে যাওয়ার নেই মানা মনে মনে!
মেলে দিলেম গানের সুরের এই ডানা মনে মনে।
তেপান্তরের পাথার পেরোই রূপ-কথার,
পথ ভুলে যাই দূর পারে সেই চুপ্-কথার–
পারুলবনের চম্পারে মোর হয় জানা মনে মনে।।
সূর্য যখন অস্তে পড়ে ঢুলি মেঘে মেঘে
আকাশ-কুসুম তুলি।
সাত সাগরের ফেনায় ফেনায় মিশে
আমি যাই ভেসে দূর দিশে–
পরীর দেশের বন্ধ দুয়ার দিই হানা মনে মনে।।
-
রাগ: কীর্তন
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1346
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1939
স্বরলিপিকার: শান্তিদেব ঘোষ,
শৈলজারঞ্জন মজুমদার
অর্ঘ্য - সূর্যমুখীর বর্ণে বসন লই রাঙায়ে,
অর্ঘ্য
- মহুয়া
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
সূর্যমুখীর বর্ণে বসন
লই রাঙায়ে,
অরুণ আলোর ঝংকার মোর
লাগলো গায়ে।
অঞ্চলে মোর কদমফুলের ভাষা
বক্ষে জড়ায় আসন্ন কোন্ আশা,
কৃষ্ণকলির হেমাঞ্জলির
চঞ্চলতা
কঞ্চুলিকার স্বর্ণলিখায়
মিলায় কথা।
আজ যেন পায় নয়ন আপন
নতুন জাগা।
আজ আসে দিন প্রথম দেখার
দোলন-লাগা।
এই ভুবনের একটি অসীম কোণ,
যুগলপ্রাণের গোপন পদ্মাসন,
সেথায় আমায় ডাক দিয়ে যায়
নাই জানা কে,
সাগরপারের পান্থপাখির
ডানার ডাকে।
চলব ডালায় আলোকমালায়
প্রদীপ জ্বেলে,
ঝিল্লিঝনন অশোকতলায়
চমক মেলে।
আমার প্রকাশ নতুন বচন ধ'রে
আপনাকে আজ নতুন রচন ক'রে,
ফাগুনবনের গুপ্ত ধনের
আভাস-ভরা,
রক্তদীপন প্রাণের আভায়
রঙিন-করা।
চক্ষে আমার জ্বলবে আদিম
অগ্নিশিখা,
প্রথম ধরায় সেই যে পরায়
আলোর টিকা।
নীরবে হাসির সোনার বাঁশির ধ্বনি
করবে ঘোষণ প্রেমের উদ্বোধনী,
প্রাণদেবতার মন্দিরদ্বার
যাক রে খুলে,
অঙ্গ আমার অর্ঘ্যের থাল
অরূপ ফুলে।
-
কলিকাতা, ২৩ শ্রাবণ, ১৩৩৫