পুব-সাগরের পার হতে কোন্ এল পরবাসী--
শূন্যে বাজায় ঘন ঘন হাওয়ায় হাওয়ায় সন সন
সাপ খেলাবার বাঁশি॥
সহসা তাই কোথা হতে কুলু কুলু কলস্রোতে
দিকে দিকে জলের ধারা ছুটেছে উল্লাসী॥
আজ দিগন্তে ঘন ঘন গভীর গুরু গুরু ডমরুর হয়েছে ওই
শুরু।
তাই শুনে আজ গগনতলে পলে পলে দলে দলে
অগ্নিবরন নাগ নাগিনী ছুটেছে উদাসী॥
-
রাগ: মিশ্র মল্লার
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): শ্রাবণ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1922
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
Thursday, June 16, 2016
পুব সাগরের পার হতে কোন্ এল পরবাসী
এই সকাল বেলার বাদল আঁধারে আজি বনের বীণায় কী সুর বাঁধা রে ॥
এই সকাল বেলার বাদল-আঁধারে
আজি বনের বীণায় কী সুর বাঁধা রে॥
ঝরো ঝরো বৃষ্টিকলরোলে তালের পাতা মুখর ক'রে
তোলে রে,
উতল হাওয়া বেণুশাখায় লাগায় ধাঁদা রে॥
ছায়ার তলে তলে জলের ধারা ওই
হেরো দলে দলে নাচে তাথৈ থৈ-- তাথৈ
থৈ।
মন যে আমার পথ-হারানো সুরে সকল আকাশ বেড়ায়
ঘুরে ঘুরে রে,
শোনে যেন কোন্ ব্যাকুলের করুণ কাঁদা রে॥
-
রাগ: কাফি
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২০ জ্যৈষ্ঠ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ৩ জুন, ১৯২২
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে
আজ আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বাজে
সারা প্রহর আমার বুকের মাঝে॥
দিঘির কালো জলের 'পরে মেঘের ছায়া ঘনিয়ে
ধরে,
বাতাস বহে যুগান্তরের প্রাচীন বেদনা যে
সারা প্রহর আমার বুকের মাঝে॥
আঁধার বাতায়নে
একলা আমার কানাকানি ওই আকাশের সনে।
ম্লানস্মৃতির বাণী যত পল্লবমর্মরের মতো
সজল সুরে ওঠে জেগে ঝিল্লিমুখর সাঁঝে
সারা প্রহর আমার বুকের মাঝে॥
-
রাগ: পিলু
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): শ্রাবণ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1922
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে আমার মনে ।
আজ নবীন মেঘের সুর লেগেছে আমার মনে।
আমার ভাবনা যত উতল হল অকারণে॥
কেমন ক'রে যায় যে ডেকে, বাহির করে ঘরের
থেকে,
ছায়াতে চোখ ফেলে ছেয়ে ক্ষণে ক্ষণে॥
বাঁধনহারা জলধারার কলরোলে
আমারে কোন্ পথের বাণী যায় যে ব'লে।
সে পথ গেছে নিরুদ্দেশে মানসলোকে গানের
শেষে
চিরদিনের বিরহিণীর কুঞ্জবনে॥
-
রাগ: মিশ্র মল্লার
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২ আষাঢ়, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১৬ জুন, ১৯২২
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
কখন বাদল ছোঁওয়া লেগে মাঠে মাঠে ঢাকে মাটি সবুজ মেঘে মেঘে ॥
কখন বাদল-ছোঁওয়া লেগে
মাঠে মাঠে ঢাকে মাটি সবুজ মেঘে মেঘে॥
ওই ঘাসের ঘনঘোরে
ধরণীতল হল শীতল চিকন আভায় ভ'রে--
ওরা হঠাৎ-গাওয়া গানের মতো এল প্রাণের
বেগে॥
ওরা যে এই প্রাণের রণে মরুজয়ের সেনা,
ওদের সাথে আমার প্রাণের প্রথম যুগের চেনা--
তাই এমন গভীর স্বরে
আমার আঁখি নিল ডাকি ওদের খেলাঘরে--
ওদের দোল দেখে আজ প্রাণে আমার দোলা ওঠে
জেগে॥
-
রাগ: দেশ-কেদারা
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): ২৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): ১১ জুন, ১৯২২
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
ওই যে ঝড়ের মেঘের কোলে বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখানি দোলে ॥
ওই-যে ঝড়ের মেঘের কোলে
বৃষ্টি আসে মুক্তকেশে আঁচলখানি দোলে॥
ওরই গানের তালে তালে আমে জামে শিরীষ শালে
নাচন লাগে পাতায় পাতায় আকুল কল্লোলে॥
আমার দুই আঁখি ওই সুরে
যায় হারিয়ে সজল ধারায় ওই ছায়াময় দূরে।
ভিজে হাওয়ায় থেকে থেকে কোন্ সাথি মোর যায় যে ডেকে,
একলা দিনের বুকের ভিতর ব্যথার তুফান তোলে॥
-
রাগ: দেশ-বাউল
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): শ্রাবণ, ১৩২৯
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1922
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
উতল ধারা বাদল ঝরে সকল বেলা একা ঘরে ॥
উতল-ধারা বাদল ঝরে। সকল বেলা একা ঘরে॥
সজল হাওয়া বহে বেগে, পাগল নদী ওঠে জেগে,
আকাশ ঘেরে কাজল মেঘে, তমালবনে আঁধার করে॥
ওগো বঁধু দিনের শেষে এলে তুমি কেমন বেশে--
আঁচল দিয়ে শুকাব জল, মুছাব পা আকুল কেশে।
নিবিড় হবে তিমির-রাতি, জ্বেলে দেব প্রেমের বাতি,
পরানখানি দেব পাতি-- চরণ রেখো তাহার 'পরে॥
ভুলে গিয়ে জীবন মরণ লব তোমায় ক'রে বরণ--
করিব জয় শরম-ত্রাসে, দাঁড়াব আজ তোমার পাশে--
বাঁধন বাধা যাবে জ্ব'লে সুখ দুঃখ দেব দ'লে,
ঝড়ের রাতে তোমার সাথে বাহির হব অভয়ভরে॥
উতল-ধারা বাদল ঝরে, দুয়ার খুলে এলে ঘরে।
চোখে আমার ঝলক লাগে, সকল মনে পুলক জাগে,
চাহিতে চাই মুখের বাগে-- নয়ন মেলে কাঁপি ডরে॥
-
রাগ: দেশ
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1318
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1911
স্বরলিপিকার: সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়,
দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর