না সজনী, না, আমি জানি জানি, সে আসিবে না।
এমনি কাঁদিয়ে পোহাইবে যামিনী,বাসনা তবু পূরিবে না।
জনমেও এ পোড়া ভালে কোনো আশা মিটিল না।।
যদি বা সে আসে,সখী,কী হবে আমার তায়।
সে তো মোরে, সজনী লো, ভালো কভু বাসে না
— জানি লো।
ভালো ক’রে কবে না কথা,চেয়েও না দেখিবে—
বড়ো আশা করে শেষে পূরিবে না কামনা।।
-
রাগ: মিশ্র আশাবরী
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1291
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1885
Thursday, August 24, 2017
না সজনী, না, আমি জানি জানি, সে আসিবে না
ছি ছি সখা,কী করিলে, কোন্ প্রাণে পরশিলে
ছি ছি সখা,কী করিলে, কোন্ প্রাণে পরশিলে—
কামিনীকুসুম ছিল বন আলো করিয়া।
মানুষ-পরশ-ভরে শিহরিয়া সকাতরে
ওই-যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া।
জান তো কামিনী-
সতী কোমল কুসুম অতি—
দূর হতে দেখিবার,ছুঁইবার নহে সে।
দূর হতে মৃদু বায় গন্ধ তার দিয়ে যায়,
কাছে গেল মানুষের শ্বাস নাহি সহে সে।
মধুপের পদক্ষেপে পড়িতেছে কেঁপে কেঁপে,
কাতর হতেছে কত প্রভাতের সমীরে।
পরশিতে রবিকর শুকাইছে কলেবর,
শিশিরের ভরটুকু সহিছে না শরীরে।
হেন কোমলতাময় ফুল কি না ছুঁলে নয়—
হায় রে কেমন বন ছিল আলো করিয়া।
মানুষ-পরশ-ভরে শিহরিয়া সকাতরে
ওই-যে শতধা হয়ে পড়িল গো ঝরিয়া।।
-
রাগ: ছায়ানট
তাল: অজ্ঞাত
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1287
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1880
সখা, মোদের বেঁধে রাখো প্রেমডোরে
সখা, মোদের বেঁধে রাখো প্রেমডোরে।
আমাদের ডেকে নিয়ে চরণতলে রাখো ধ’রে—
বাঁধো হে প্রেমডোরে।
কঠোর পরানে কুটিল বয়ানে
তোমার এ প্রেমের রাজ্য রেখেছি আঁধার ক’রে।
আপনার অভিমানে দুয়ার দিয়ে প্রাণে
গরবে আছি বসে চাহি আপনা-পানে।
বুঝি এমনি করে হারাব তোমারে—
ধূলিতে লুটাইব আপনার পাষাণভারে।
তখন কারে ডেকে কাঁদিব কাতর স্বরে।।
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: অজ্ঞাত
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1291
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1884
সকলের কাছে ডাকি আনন্দ
সকলের কাছে ডাকি আনন্দ-আলয়ে থাকি
অমৃত করিছ বিতরণ।
পাইয়া অনন্ত প্রাণ জগত গাহিছে গান
গগনে করিয়া বিচরণ।
সূর্য শূন্যপথে ধায়— বিশ্রাম সে নাহি চায়,
সঙ্গে ধায় গ্রহপরিজন।
লভিয়া অসীম বল ছুটেছে নক্ষত্রদল,
চারি দিকে চলেছে কিরণ।
পাইয়া অমৃতধারা নব নব গ্রহ তারা
বিকশিয়া উঠে অনুক্ষণ—
জাগে নব নব প্রাণ, চিরজীবনের গান
পূরিতেছে অনন্ত গগন।
পূর্ণ লোক লোকান্তর, প্রাণে মগ্ন চরাচর
প্রাণের সাগরে সন্তরণ।
জগতে যে দিকে চাই বিনাশ বিরাম নাই,
অহরহ চলে যাত্রীগণ।
মোরা সবে কীটবৎ, সমুখে অনন্ত পথ
কী করিয়া করিব ভ্রমণ।
অমৃতের কণা তব পাথেয় দিয়েছ,প্রভো,
ক্ষুদ্র প্রাণে অনন্ত জীবন।।
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: ঝাঁপতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1290
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী
নিত্য সত্য চিন্তন করো রে বিমলহৃদয়ে
নিত্য সত্য চিন্তন করো রে বিমলহৃদয়ে,
নির্মল অচল সুমতি রাখো ধরি সতত।।
সংশয়নৃশংস সংসারে প্রশান্ত রহো,
তাঁর শুভ ইচ্ছা স্মরি বিনয়ে রহো বিনত।।
বাসনা করো জয়, দূর করো ক্ষুদ্র ভয়।
প্রাণধন করিয়া পণ চলো কঠিন শ্রেয়পথে,
ভোলো প্রসন্নমুখে স্বার্থসুখ,আত্মদুখ—
প্রেম-আনন্দরসে নিয়ত রহো নিরত।।
-
রাগ: আড়ানা
তাল: ঝাঁপতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1304
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1897
সখা, তুমি আছ কোথা —
সখা, তুমি আছ কোথা—
সারা বরষের পরে জানাতে এসেছি ব্যথা।।
কত মোহ,কত পাপ, কত শোক, কত তাপ,
কত যে সয়েছি আমি তোমারে কব সে কথা।।
যে শুভ্র জীবন তুমি মোরে দিয়েছিলে সখা,
দেখো আজি তাহে কত পড়েছে কলঙ্করেখা।।
এনেছি তোমারি কাছে, দাও তাহা দাও মুছে—
নয়নে ঝরিছে বারি, সভয়ে এদেছি পিতা।।
দেখো দেব,চেয়ে দেখো হৃদয়েতে নাহি বল—
সংসারের বায়ুবেগে করিতেছে টলমল।
লহো সে হৃদয় তুলে, রাখো তব পদমূলে—
সারাটি বরষ যেন নির্ভয়ে রহে গো সেথা।।
-
রাগ: ভৈরবী
তাল: একতাল
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1290
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1883
স্বরলিপিকার: ইন্দিরা দেবী
মা,আমি তোর কী করেছি
মা,আমি তোর কী করেছি।
শুধু তোরে জন্ম ভ’রে মা বলে রে ডেকেছি।।
চিরজীবন পাষাণী রে, ভাসালি আঁখিনীরে —
চিরজীবন দুঃখানলে দহেছি।।
আঁধার দেখে তরাসেতে চাহিলাম তোর কোলে যেতে —
সন্তানেরে কোলে তুলে নিলি নে।
মা-হারা সন্তানের মতো কেঁদে বেড়াই অবিরত —
এ চোখের জল মুছায়ে তো দিলি নে।
ছেলের প্রাণে ব্যথা দিয়ে যদি,মা,তোর জুড়ায় হিয়ে
ভালো ভালো,তাই তবে হোক—
অনেক দুঃখ সয়েছি।।
-
রাগ: মিশ্র বারোয়াঁ
তাল: আড়াঠেকা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1289
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1882