Friday, February 26, 2016

বিদায় - তোমার আমার মাঝে হাজার বৎসর নেমে এল,

বিদায়
- বিচিত্রিতা
-
তোমার আমার মাঝে হাজার বৎসর
নেমে এল, মুহূর্তেই হল যুগান্তর।
মাথায় ঘোমটা টানি
যখনি ফিরালে মুখখানি
কোনো কথা নাহি বলি,
তখনি অতীতে গেলে চলি--
যে-অতীতে অসীম বিরহে
ছায়াসম রহে
বর্তমানে যারা
হয়েছে প্রেমের পথহারা।
যে-পারে গিয়েছ হোথা
বেশি দূর নহে এখনো তা।
ছোটো নির্ঝরিণী শুধু বহে মাঝখানে,
বিদায়ের পদধ্বনি গাঁথে সে করুণ কলগানে।
চেয়ে দেখি অনিমিখে
তুমি চলিয়াছ কোন্ শিখরের দিকে;
যেন স্বপ্নে উঠিতেছ ঊর্ধ্ব-পানে,
যেন তুমি বীণাধ্বনি, শান্ত সুরে তানে
চলিয়াছ মেঘলোকে।
আজি মোর চোখে
কাছের মূর্তির চেয়ে দূরের মূর্তিতে তুমি
বড়ো
অনেক দিনের মোর সব চিন্তা করিয়াছি জড়ো,
সব স্মৃতি,
অব্যক্ত সকল প্রীতি, ব্যক্ত সব গীতি--
উৎসর্গ করিনু আজি, যাত্রী তুমি, তোমার উদ্দেশে।
স্পর্শ যদি নাই করো যাক তবে ভেসে।
-
২৮ জুলাই, ১৯৩২

কন্যাবিদায় - জননী, কন্যারে আজ বিদায়ের ক্ষণে

কন্যাবিদায়
- বিচিত্রিতা
-
জননী, কন্যারে আজ বিদায়ের ক্ষণে
আপন অতীতরূপ পড়িয়াছে মনে
যখন বালিকা ছিলে।
মাতৃক্রোড় হতে
তোমারে ভাসালো ভাগ্য দূরতর
স্রোতে সংসারের।
          তার পর গেল কত দিন
দুঃখে সুখে,
বিচ্ছেদের ক্ষত হল ক্ষীণ।
এ-জন্মের আরম্ভভূমিকা-- সংকীর্ণ সে
প্রথম উষার মতো-- ক্ষণিক প্রদোষে
মিলাইল লয়ে তার স্বর্ণ কুহেলিকা।
বাল্যে পরেছিলে শুভ্র মাঙ্গল্যের টিকা,
সিন্দূররেখায় হল লীন।
সে-রেখাটি
জীবনের পূর্বভাগ দিল যেন কাটি।
আজ সেই ছিন্নখণ্ড ফিরে এল শেষে
তোমার কন্যার মাঝে অশ্রুর আবেশে।

Thursday, February 25, 2016

পাতার ভেলা ভাসাই নীরে, পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥

পাতার ভেলা ভাসাই নীরে,
পিছন-পানে চাই নে ফিরে ॥
কর্ম আমার বোঝাই ফেলা,
খেলা আমার চলার খেলা।
হয় নি আমার আসন মেলা,
ঘর বাঁধি নি স্রোতের তীরে ॥
বাঁধন যখন বাঁধতে আসে
ভাগ্য আমার তখন হাসে।
ধুলা-ওড়া হাওয়ার ডাকে পথ
যে টেনে লয় আমাকে--
নতুন নতুন বাঁকে বাঁকে
গান দিয়ে যাই ধরিত্রীরে ॥
-
রাগ: পিলু-বৃন্দাবনী সারং
তাল: কাহারবা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): চৈত্র, ১৩৩২
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1926

Wednesday, February 24, 2016

Ei Kathati Mone Rekho - এই কথাটি মনে রেখো -

এই কথাটি মনে রেখো,
তোমাদের এই হাসিখেলায়
আমি যে গান গেয়েছিলেম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়।
শুকনো ঘাসে শূন্য বলে আপন-মনে
অনাদরে অবহেলায়
আমি যে গান গেয়েছিলেম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়॥
দিনের পথিক মনে রেখো,
আমি চলেছিলেম রাতে
সন্ধ্যাপ্রদীপ নিয়ে হাতে।
যখন আমার ও-পার থেকে গেল ডেকে   
ভেসেছিলেম ভাঙা ভেলায়।
আমি যে গান গেয়েছিলেম
জীর্ণ পাতা ঝরার বেলায়॥
-
রাগ: খাম্বাজ
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1328
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1921
রচনাস্থান: শান্তিনিকেতন
স্বরলিপিকার: দিনেন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
Like Us Facebook Pages
Facebook.com/RabindraRachanaBali

Tuesday, February 23, 2016

দ্বিধা - বাহিরে যার বেশভূষার ছিল না প্রয়োজন,

- দ্বিধা
- বিচিত্রিতা
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
-
বাহিরে যার বেশভূষার ছিল না প্রয়োজন,
হৃদয়তলে আছিল যার বাস,
পরের দ্বারে পাঠাতে তারে দ্বিধায় ভরে মন
কিছুতে হায় পায় না আশ্বাস।
সবুজ বনে নীল গগনে
মিশায় রূপ সবার সনে,
পাখির গানে পরায় যারে সাজ,
ছিন্ন হয়ে সে-ফুল একা
আকাশ-হারা দিবে কি দেখা
পাথরে-গাঁথা প্রাচীর-মাঝে আজ।
চন্দনের গন্ধজলে মুছালো মুখখানি,
নয়নপাতে কাজল দিল আঁকি।
ওষ্ঠাধরে যতনে দিল রক্তরেখা টানি,
কবরী দিল করবীমালে ঢাকি।
ভূষণ যত পরালো দেহে
তাহারি সাথে ব্যাকুল স্নেহে
মিলিল দ্বিধা, মিলিল কত ভয়।
প্রাণে যে ছিল সুপরিচিত
তাহারে নিয়ে ব্যাকুল চিত
রচনা করে চোখের পরিচয়।
-
১৩ মাঘ, ১৩৩৮

Sunday, February 21, 2016

এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু

এতদিন তুমি সখা, চাহ নি কিছু;
নীরবে ছিলে করি নয়ন নিচু।
রাজ-অঙ্গুরী মম করিলাম দান,
তোমারে দিলাম মোর শেষ সম্মান।
তব বীর-হাতে এই ভূষণের সাথে
আমার প্রণাম যাক তব পিছু পিছু।

Saturday, February 20, 2016

DinGuli Mor Sonar Khanchay - দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না

দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
কান্নাহাসির বাঁধন তারা সইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
আমার প্রাণের গানের ভাষা
শিখবে তারা ছিল আশা--
উড়ে গেল, সকল কথা কইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥
স্বপন দেখি, যেন তারা কার আশে
ফেরে আমার ভাঙা খাঁচার চার পাশে--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি।
এত বেদন হয় কি ফাঁকি।
ওরা কি সব ছায়ার পাখি।
আকাশ-পারে কিছুই কি গো বইল না--
সেই-যে আমার নানা রঙের দিনগুলি॥

-
রাগ: ইমন-পূরবী
তাল: দাদরা
রচনাকাল (বঙ্গাব্দ): 1325
রচনাকাল (খৃষ্টাব্দ): 1918